Description
চট্টগ্রামের যে স্বাদ এতদিন শুধু ঘরের ভেতরেই থেকে গিয়েছিল
ফ্রিজ আসার আগে চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস রাখার একটাই উপায় ছিল — নিজেদের গোপন মসলায় মাখিয়ে, মাটির চুলার হালকা আঁচে দিনের পর দিন ধীরে ধীরে শুকিয়ে নেওয়া। প্রয়োজন থেকে জন্ম নেওয়া সেই পদ্ধতিই একসময় হয়ে উঠল বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত স্বাদ।
ফোয়ানা গুস্তো ঠিক সেই ঐতিহ্য — একই পদ্ধতি, একই ধৈর্য, একই মসলার স্মৃতি। এই প্রথম পরিবারের রান্নাঘরের বাইরে।
এটা শুঁটকিও নয়, জার্কিও নয় — পার্থক্যটা জেনে নিন
বেশিরভাগ মানুষ প্রথমবার শুনে ভুল বোঝেন। তাই পরিষ্কার করে বলি —
- শুঁটকি — কাঁচা মাছ লবণ মেখে রোদে শুকানো হয়। রান্না হয় না। তাই সেই চেনা ঝাঁঝালো গন্ধ।
- জার্কি — কাঁচা মাংস মসলায় মাখিয়ে সরাসরি শুকিয়ে ফেলা হয়। এটিও রান্না করা খাবার নয়।
- ফোয়ানা গুস্তো — তাজা কাঁচা গরুর মাংস প্রথমে পুরোপুরি রান্না করা হয়, তারপর মাটির চুলার ধীর আঁচে ধাপে ধাপে শুকানো হয়। অর্থাৎ আপনি যা খাচ্ছেন সেটা রান্না করা মাংস — শুধু পানিটুকু সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, স্বাদটা জমিয়ে রাখা হয়েছে।
ফল? ঝাঁঝালো গন্ধ নেই। কাঁচা ভাব নেই। প্যাকেট খুলেই খাওয়া যায়। এটাই চট্টগ্রামের নিজস্ব খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি — আগে রান্না, তারপর ধীরে শুকিয়ে রাখা।
দাম কেন এমন — হিসাবটা লুকানোর কিছু নেই
- ১ কেজি তাজা গরুর মাংস থেকে পাওয়া যায় মাত্র ১৮০-১৯০ গ্রাম গুস্তো। রান্না ও শুকানোর সময় পানি ও ওজন অনেকটাই কমে যায়।
- বাছাই, পরিষ্কার, রান্না ও শুকানোর পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ ও বেশ জটিল।
- কোনো প্রিজারভেটিভ নেই, কৃত্রিম রং নেই। শুধু মাংস, ঐতিহ্যবাহী মসলা, মাটির চুলার ধীর আঁচ আর সময়।
- মেশিনে নয়, মাটির চুলায় ধীরে শুকানো — তাই মাংস শক্ত চামড়ার মতো হয়ে যায় না।
- ছোট ব্যাচে হাতে তৈরি — পরিমাণ বাড়াতে গিয়ে কখনও মান কমানো হয় না।
১৫০ গ্রামের প্যাকেটে প্রায় ৮০০ গ্রাম আর ২০০ গ্রামের প্যাকেটে প্রায় ১ কেজি তাজা মাংসের পুরো স্বাদ। হিসাব করলে দামটা আর বেশি মনে হবে না।
কীভাবে খাবেন
- প্যাকেট খুলে সরাসরি — তেল ছাড়া, ঝামেলা ছাড়া, উচ্চ প্রোটিনের স্ন্যাকস
- ৩০ সেকেন্ড হালকা ভেজে — ঘ্রাণেই পুরো পরিবার রান্নাঘরে চলে আসবে
- গরম ভাত আর ডালের সঙ্গে — চট্টগ্রাম যেভাবে চিরকাল খেয়ে এসেছে
- বৃষ্টির দিনে খিচুড়ির পাশে — এই জুটির ব্যাখ্যা লাগে না
পণ্যের বিবরণ
- নিট ওজন: ১৫০ গ্রাম অথবা ২০০ গ্রাম — অর্ডারের সময় বেছে নিন
- উপকরণ: তাজা গরুর মাংস, ঐতিহ্যবাহী চাটগাঁইয়া মসলা
- প্রস্তুত প্রণালি: রান্না করে মাটির চুলার ধীর আঁচে শুকানো
- খাওয়ার নিয়ম: সরাসরি খাওয়া যায় — চাইলে হালকা ভেজে নিন
- সংরক্ষণ: মুখবন্ধ অবস্থায় ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ থেকে দূরে
স্টক সীমিত — এবং কেন, সেটা লুকাচ্ছি না
- সবকিছু ঘরে, ছোট ব্যাচে, হাতে তৈরি। কারখানার উৎপাদন নয় — তাই একসঙ্গে অল্প পরিমাণই বানানো সম্ভব।
- ভালো মানের চর্বি মুক্ত তাজা মাংসই আমাদের কাঁচামাল — যেকোনো মাংস দিয়ে গুস্তো হয় না।
- পুরো প্রক্রিয়াটাই সময়সাপেক্ষ — আগে রান্না, তারপর ধাপে ধাপে ধীরে শুকানো। তাড়াহুড়ো করলে স্বাদটাই নষ্ট হয়।
- প্রতিটি ধাপে কঠোর পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি — নিজের পরিবারের জন্য যেভাবে রান্না করা হয়, ঠিক সেভাবেই।
তাই স্টক সবসময় থাকে না, আর ডেলিভারির সময় স্টক ও কাঁচামালের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে। অর্ডার করার পর আমরা ফোনে আপনাকে সম্ভাব্য সময় জানিয়ে দিই। স্টক থাকলে দ্রুতই পাঠানো হয় — না থাকলে আগেই জানিয়ে দিই, চুপ করে বসিয়ে রাখি না।
অর্ডার ও ডেলিভারি
- ক্যাশ অন ডেলিভারি — কুরিয়ার থেকে প্যাকেট হাতে নিয়ে, দেখে, তারপর টাকা দিন।
- সারা বাংলাদেশে ডেলিভারি — চট্টগ্রাম শহরে ৳৭০, ঢাকা শহরে ৳১১৫, অন্যান্য জেলায় ৳১৩০।
- ক্ষতিগ্রস্ত, নষ্ট বা ভুল পণ্য পেলে — ডেলিভারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবিসহ জানান, আমরা রিপ্লেসমেন্ট অথবা রিফান্ড দিই। (রিটার্ন পলিসি)
- যেকোনো প্রশ্নে সরাসরি কথা বলুন — ০১৮১৫-৫৯৬২০০ (কল অথবা হোয়াটসঅ্যাপ)
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সরাসরি খাব নাকি ভেজে খাব?
দুটোই — কিন্তু স্বাদ দুই রকম। সরাসরি খেলে তেলবিহীন, পরিষ্কার নোনতা স্বাদ। হালকা ভাজলে চাটগাঁইয়া মসলার গভীর ঘ্রাণটা খুলে যায়। প্রথমবার দুইভাবেই খেয়ে দেখুন।
কতদিন ভালো থাকে?
বায়ুরোধী পাত্রে ঠান্ডা শুকনো জায়গায় ৩ মাস বা তার বেশি। ফ্রিজে রাখলে বছরের পর বছর, আলাদা কিছু করা লাগে না। চট্টগ্রামের ঘরোয়া নিয়ম — প্রতি ২-৩ মাসে চুলার ধীর আঁচে একটু শুকিয়ে নিলে আবার ২-৩ মাস বাড়ে।
বাচ্চারা খেতে পারবে?
পারবে। এটি রান্না করা মাংস, কাঁচা কিছু নয়, প্রিজারভেটিভও নেই। খুব ছোট বাচ্চাদের জন্য ছোট টুকরো করে অথবা ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে দিন।
চট্টগ্রামের বাইরে ডেলিভারি হয়?
হ্যাঁ, সারা বাংলাদেশে — এবং ক্যাশ অন ডেলিভারিতে।
গন্ধ কেমন? শুঁটকির মতো?
একদমই না। শুঁটকির ঝাঁঝালো গন্ধ আসে কাঁচা মাছ রোদে শুকানো থেকে। গুস্তো রান্না করা মাংস — ঘ্রাণটা মসলা আর ভুনা মাংসের, ঘরে গন্ধ ছড়ায় না।






omarfaruk –
সবচেয়ে ভালো লেগেছে ready-to-eat হওয়াটা। হঠাৎ রাতে একটু খেতে ইচ্ছা করছিল, প্যাকেট খুলেই খেয়ে ফেললাম।
Ayesa Akter –
বাসায় সবাইকে একটু একটু করে খেতে দিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত দেখি আমিই সবচেয়ে কম খেয়েছি 😂 বাচ্চারাও বেশ পছন্দ করেছে। খুব ইউনিক একটা খাবার।